এসএমই ব্যবসায় পরিকল্পনা প্রতিযোগিতা-২০১২

এসএমই উদ্যোক্তাদের নতুন নতুন ও সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক ধারণা খুঁজে বের করা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরী ও সৃজনশীল এসএমই খাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন গত বছর বাংলালিংক এর সহযোগিতায় “এসএমই ব্যবসায় পরিকল্পনা প্রতিযোগিতা-২০১২” আয়োজন করে।

বিগত ৩০ নভেম্বর ২০১১ তারিখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অডিটোরিয়ামে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এর মাননীয় চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর জি এম চৌধুরী এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (ডিসিসিআই) এর প্রেসিডেন্ট জনাব আসিফ ইব্রাহীম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন থেকে প্রাথমিক বাছাইয়ের জন্য আবেদন আহবান করা হয়। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার, বিভিন্ন ট্রেড বডিজ/এসোসিয়েশন, বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যাংকে পত্র প্রেরণ, লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং, ব্যানার, এসএমএস, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানানো প্রভৃতির মাধ্যমে এই কর্মসূচির ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। বিগত ১৫ জানুয়ারি ২০১২ তারিখ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। এ প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। মোট ৪৭৫ টি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক আবেদন পত্রসমূহ যাচাই বাছাইয়ের লক্ষ্যে গঠিত বাছাই ও নির্বাচন কমিটি জমাকৃত আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে ১৫০ জনকে নির্বাচিত করেন। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রতিযোগিদের ব্যবসায় পরিকল্পনা তৈরীর কৌশল এবং নিয়মাবলীর উপর গত ৩,৪ ও ৬ মার্চ ২০১২ তারিখ এসএমই ফাউন্ডেশনের কনফারেন্সরুমে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ৩টি ব্যাচে ৫০ জন করে ৩ দিনের কর্মশালায় প্রশিক্ষণার্থীরা অংশগ্রহণ করে। উল্লেখ্য, এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিশ্লেষণসমৃদ্ধ টুলস্সহ বিজনেস প্ল্যান এর একটি টেমপ্লেট তৈরী করা হয়। বিভিন্ন ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দের কাছ থেকে প্রাপ্ত মূল্যবান মতামত এবং পরামর্শের আলোকে একটি ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপের মাধ্যমে এই টেমপ্লেটটি চূড়ান্ত করা হয়। টেমপ্লেট অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ বিজনেস প্ল্যান তৈরী করে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বিগত ১০ মে ২০১২ তারিখের মধ্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে জমা দেন। ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি যাচাই-বাছাই কমিটি বিজনেস প্ল্যানসমূহ সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করে জুরি বোর্ডের সামনে উপস্থাপন করেন। প্রোফেশনাল ও এক্সপার্টদের সমন্বয়ে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়। জুরি বোর্ড জমাকৃত ব্যবসায় পরিকল্পনাসমূহ পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করে ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে যোগ্যতার ক্রমানুসারে চূড়ান্তভাবে ১ম, ২য় এবং ৩য় বিজয়ী নির্বাচিত করেন।

প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানটি বিগত ২২ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখ রোজ শনিবার সকাল ১১:০০ টায় ঢাকাস্থ রূপসী বাংলা হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিল্পমন্ত্রী ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন জনাব দিলীপ বড়–য়া প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দি ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর প্রেসিডেন্ট জনাব কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব এ. বি. এম. খোরশেদ আলম। প্রতিযোগিতায় বুয়েটের শিক্ষার্থী সামিয়া শরিফ এবং মাহমুদৃুল ইসলাম তপুর দাখিলকৃত ধানের তুষের ছাই থেকে সোডিয়াম সিলিকেট তৈরীর ব্যবসায় পরিকল্পনা প্রথম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ ইব্রাহিম খলিল চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের দলের দাখিলকৃত কলা গাছের ছাল থেকে সুতা উৎপাদন পরিকল্পনা দ্বিতীয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিশাদ আহমেদ এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের দলের দাখিলকৃত বাঁশ পাতা ও ধানের তুষ থেকে কাগজের বোতল উৎপাদন পরিকল্পনা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেরিয়েন স্বজন ভক্তের নেতৃত্বে চার সদস্যের দলের দাখিলকৃত প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে গ্রীণ ফুয়েল পরিকল্পনা বিশেষ পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান বিজয়ীদের হাতে যথাক্রমে পাঁচ লাখ, চার লাখ ও তিন লাখ টাকার চেক ও ক্রেস্ট তুলে দেন।