২য় পুরস্কার
কলা গাছের ছাল থেকে সুতা

বাংলাদেশ-নানা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর একটি দেশ। বর্তমান বিশ্ব যখন মানব সৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন ঠিক তখনই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলো কীভাবে পরিবেশ দূষণ না করে নতুন কিছু করে নিজেদের কর্মসংস্থান এবং কর্মসংস্থান এর সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। পণ্যটির  কাঁচামাল সম্পূর্ণই আবর্জনা অথবা আগাছা হিসেবে পড়ে থাকে। সেই পড়ে থাকা জিনিসের মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায় অপার সৌন্দর্য। আর এটি হল কলা গাছের ছাল। এই ছাল থেকেই সম্ভব মূল্যবান সুতা বানানো। আর তাইতো এর নামকরণ করা হয়েছে ‘বানানা বিউটি বাংলাদেশ’। আগামী বছরের জানুয়ারী নাগাদ ব্যবসাটি শুরু হবে বলে আশা করা যায়। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিকল্পনার (Project Implementation Schedule) মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মপ্রণালী নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যবসাটির প্রতি আগ্রহী হওয়ার কয়েকটি যৌক্তিক কারণ:

  • প্রায় বিনা খরচেই কাঁচামাল।

  • অত্যন্ত সস্তা শ্রম।

  • প্রকল্পটি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার অন্তর্গত মগাছড়িতে স্থাপন করা হবে, যেখান থেকে অতি সহজেই কাঁচামাল সংগ্রহ করা যাবে।

  • উৎপাদন খরচ বিশ্লেষণে দেখা যায় প্রতিযোগীদের চেয়ে কম দামে উৎকৃষ্ট মানের পণ্য সরবরাহ করা যাবে।

এছাড়া পণ্যটির কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বর্তমান বাজারে অবস্থানরত পণ্যের উপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে। কলা গাছের ছাল থেকে কাপড় বানানোর তন্তু, দড়ি, সৌখিন জিনিসপত্র এবং তাঁবু বানানোর জন্য উৎকৃষ্ট মানের সুতা বানানো যায়। এছাড়াও প্রাকৃতিক তন্তুর মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্ত, এর আদ্রতা ধরে রাখা এবং ত্যাগ করার ক্ষমতা অত্যন্ত চমৎকার। কৃত্রিম তন্তুর বিকল্প হিসেবে এর ব্যবহার করা যায় এবং এর মাধ্যমে ১০০% রাসায়নিক দ্রব্য মুক্ত কাগজ ও কাপড় বানানো সম্ভব যা ৭০০ গুণ বেশী দীর্ঘস্থায়ী।
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত মেশিনগুলো Mac-Well Engineering Works, Mumbai, India হতে আমদানি করা হবে। ব্যবহৃত প্রযুক্তি অত্যন্ত সহজ এবং এটি সহজলভ্য। কর্মীরা সামান্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই মেশিনগুলি ব্যবহারে সক্ষম হবে।

ব্যবসায়ের সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ ৯০.৩৩ লক্ষ টাকা। তন্মধ্যে ৩৪.৬৩% বা ৩১.২৮ লক্ষ টাকা ঋণ এবং ৬৫.৩৭% বা ৫৯.০৫ লক্ষ টাকা মূলধন। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক তন্তুর ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং প্রচলিত তন্তুগুলোর সরবরাহ ও কিছু ত্রুটির কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ধারিত বাজার হল উন্নত দেশগুলো (ডেনমার্ক, ফ্রান্স, স্পেন, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, জাপান এবং বেলজিয়াম)। ফ্যাশন এবং প্রকৃতি সচেতন লোকজন পণ্যটির প্রধান ক্রেতা।

ব্যবসায়ের বাৎসরিক উৎপাদন ক্ষমতা ৭,৫০০ কিলোগ্রাম, বাৎসরিক উৎপাদন ব্যয় ৫১.৭৪ লক্ষ টাকা এবং সম্ভাব্য বাৎসরিক বিক্রয়ের পরিমাণ ১.৫০ কোটি টাকা। প্রতি একক (কেজি) পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২৫ ডলার যা প্রতিযোগীদের চাইতে তুলনামূলক কম। আশা করা যায় এটির ব্রেক-ইভেন ৭ মাসের মধ্যে অর্জিত হবে।

ক্রেতার সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন দেশী ও আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকা ও ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপণ প্রদানের মাধ্যমে ক্রেতা আকর্ষণ এবং পণ্যের প্রসার নিশ্চিত করা হবে।

এই ব্যবসায় পার্বত্য এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে যেখানে উল্লেখযোগ্য বেকার সমস্যা বিদ্যমান। এছাড়া পরবর্তী পর্যায়ে গ্রামীণ মহিলাদেরকে সংযুক্ত করে বিভিন্ন রকম ফ্যাশন পণ্য তৈরি করে সরাসরি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপণন করা হবে। আশা করা যায়, এই সার্বিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেদের পাশাপাশি বিপুল জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহার কমে আসবে।

পরিচিতিঃ