৩য় পুরস্কার
বাঁশ পাতা ও ধানের তুষ থেকে কাগজের বোতল

প্লাস্টিক বোতলের বিকল্প গ্রীণ প্যাক পেপার বোতল। বাংলাদেশ এই প্রথম বারের মত দেশীয়-ভাবে তৈরিকৃত কাগজের বোতল যা বেভারেজ কো¤পানিগুলোকে অতিরিক্ত পরিবেশ-বান্ধব হওয়ার সুবিধা এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরিতে সহায়তা করবে।
এই বোতলের টেঁকসই ডিজাইন ফিলিং, ভিজিবল ম্যাটেরিয়াল,ইম্প্রেশন, লেবেলিং এবং  মাল্টি প্যাকেজিং এর খরচ কমাবে। এই বোতলটি বায়ো-ডিগ্রেডেবল তাই মাটির সাথে মিশে যায় এবং প্লাস্টিক বোতলের মত  পরিবেশের ক্ষতি করেনা। বোতল রং করার জন্য  প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করা হবে এবং কো¤পানি গ্রাফিক্স বোতলে  এম্বুস অথবা লেবেল করে লাগানো যাবে।

এই ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন এর পরিমাণ হল ৪.১০ কোটি টাকা। কিন্তু যদি তুলনামূলক ছোট বাজার (যেমনঃ মিনারেল ওয়াটার বোতলের বাজার) কে টার্গেট করলে বিনিয়োগ বহুলাংশে  কমানো সম্ভব। ৪.১০ কোটি টাকার মধ্যে ১৮% সুদে ১.১০ কোটি সংগ্রহ করা হবে  বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এবং  ৩.০৬ কোটি টাকা সরবরাহ করা হবে উদ্যোক্তাদের  দ্বারা।

প্রাথমিকভাবে গ্রীণ প্যাক বেভারেজ কনটেইনার বাংলাদেশ সেসব বেভারেজ কো¤পানিগুলোকে (সফট  ড্রিংকস,এনার্জি ড্রিংকস, মিনারেল ওয়াটার, হোম-বেইজড ট্র্যাডিশনাল ড্রিংকস) টার্গেট করবে যারা  তাদের বোতলের প্যাকেজিং কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারার অথবা তৃতীয় কোন পক্ষ এর কাছ থেকে সংগ্রহ  করে। বর্তমানে গ্রীণপ্যাক বেভারেজ কনটেইনার এর সম্ভাব্য ক্লাইন্ট এর সংখ্যাঃ ১৩ টি সফট ড্রিংকস  কো¤পানি, ৯ টি মিনারেল ওয়াটার কো¤পানি, ৫ টি এনার্জিড্রিংক কো¤পানি, ৭ টি হোম-বেইজড  ট্রেডিশনাল ড্রিঙ্ক কো¤পানি।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৬ টি বেভারেজ কো¤পানি রয়েছে (সফট ড্রিংক,এনার্জিড্রিংক, মিনারেল ওয়াটার)। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮১,৫০০ ইউনিটকেস বেভারেজ বিক্রি হয় যার  মধ্যে ৭৩.২৪% হলো প্লাস্টিক বোতল। প্রায় ৭টি বেভারেজ কো¤পানির তাদের নিজস্ব বোতল ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট  রয়েছে কিন্তু অন্যান্যরা কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারার অথবা তৃতীয় কোন পক্ষ দ্বারা তাদের বোতলের  প্যাকেজিং এর কাজ স¤পন্ন করে থাকে। বাংলাদেশের বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রি দিন দিন দ্রুত বিস্তার লাভ  করছে। বর্তমানে এর প্রবৃদ্ধির হার ৯.৪%। এই  প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য প্রতিটি কো¤পানিই তাদের নিজেদের জন্য মার্কেটে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে  চায়। বেভারেজ কো¤পানিগুলোর এসকল চাহিদা কার্যকরভাবে পূরণের মাধ্যমে গ্রীণ প্যাক বেভারেজ কনটেইনার খুব সহজেই  বাজার দখল করতে পারবে।

গ্রীণ প্যাক “কিক দা প্লাস্টিক বটল” ক্যা¤েপইন এর মাধ্যমে মিডিয়া কভারেজ তৈরি করবে যা প্লাস্টিক বোতল বর্জন এর জন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে। বিশেষ করে নতুন  প্রজন্মের  মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য রোড শো করা হবে। গ্রীণ প্যাক সব ধরনের সোশাল নেটওয়ার্ক এর পরিপূর্ণ ব্যবহার করবে। প্লাস্টিক বোতলের  খারাপ প্রভাব ভিসুয়ালাইজ করা হবে ভিডিও ক্লিপ এর মাধ্যমে এবং তা ব্যাপক ভাবে প্রচার করা  হবে। যা অনলাইন জেনারেশন এর মাঝে সচেতনতা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনগুলোর সাথে প্রয়োজনীয় লিয়াজো রক্ষা করা হবে  যাতে করে কিছু হলেও প্লাস্টিক বোতলের ব্যবহার কমানো যায়।

গ্রীণ প্যাক “বিশ্ব পরিবেশ দিবস (৫ জুন)” উদযাপন করবে দিন ব্যাপী সেমিনার, রচনা  প্রতিযোগিতা, ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। রোড শো প্রোগ্রামের মাধ্যমে  গ্রীণ প্যাক ফ্রি পেপার বোতলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করবে ও টিম সেলিং কনসেপ্ট অনুযায়ী সেলস টিম গ্রীণ প্যাক পেপার কন্টেইনার বেভারেজ  কো¤পানিতে ডেমন্সট্রেট করবে এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী উভয়পক্ষের অংশগ্রহণে বোতল  তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রথম স্তরে কাঁচামালগুলোকে চূর্ণ করার মধ্য দিয়ে এগুলো থেকে পেস্ট তৈরি করা হয়। এরপর অটোমেটিক মেশিনের সাহায্যে মন্ড থেকে .৫ মিঃ মিঃ পুরুত্বের সীট তৈরি করা হয়। লম্বা সীটগুলোকে প্রেসার এবং হিট মেশিনের সাহায্যে বোতলের অর্ধেক অংশের আকৃতি তৈরি করা হয়। উল্লেখ্য যে, বোতলগুলোর অর্ধাংশ একটি সিঙ্গেল লাইনে তৈরি হয়ে আসে। পরবর্তীতে একইভাবে তৈরি বোতলের অপর অংশের সীটের সাথে লাগিয়ে দিয়ে পুরো বোতল তৈরি করা হয়। বোতলগুলোকে পানি ও বায়ূরোধক করার জন্য পলিল্যাকটিক এসিড এর আবরণ দেয়া হয়।

বোতল তৈরির মূল কাঁচামাল (বাঁশপাতা এবং ধানের তুষ) ময়মনসিংহ থেকে সংগৃহীত হবে। যেখানে ধানের তুষের বাৎসরিক উৎপাদন ৪.২৪ মিলিয়ন টন এবং পর্যাপ্ত বাঁশ বাগান রয়েছে (আনুমানিক ২.৫৭ হাজার হেক্টর)। বিকল্প উৎস হিসেবে গ্রীণ প্যাক লিঃ মৌলভীবাজার থেকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করবে।

জিপি ২৫০ মিঃ লিঃ     এর প্রতিটির উৎপাদন ব্যয় ১.৫ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ১.৮ টাকা (প্লাস্টিক বোতলের মূল্য ২ টাকা), জিপি ৫০০ মিঃ লিঃ এর প্রতিটির উৎপাদন ব্যয় ৩.১ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ৫ টাকা (প্লাস্টিক বোতলের মূল্য ৬.৫ টাকা), জিপি কাস্টমাইজড এর প্রতিটির উৎপাদন ব্যয় ৫ টাকা এবং বিক্রয় মূল্য ৯ টাকা (প্লাস্টিক বোতলের মূল্য ৯.৫ টাকা)। গ্রীণ প্যাক লিঃ ৩ বছরের মধ্যে ব্রেক ইভেনে পৌছবে।
কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পেপার বোতল বিস্তার লাভ করছে। বেভারেজ, মিল্ক ও বিভিন্ন লিকুইড পণ্য প্যাকেজিং করার ক্ষেত্রে পেপার প্যাকেজিং এর বিকল্প নেই। সবশেষে বলা যায় গ্রীণ প্যাক পেপার কনটেইনার ভোক্তা, কো¤পানি এবং পরিবেশ এই তিন ক্ষেত্রেই চমকপ্রদ পরিবর্তন নিয়ে আসতে সক্ষম হবে।

পরিচিতিঃ