বিশেষ পুরস্কার
প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে গ্রীণ ফুয়েল

‘গ্রীণ এন ক্লীন ফুয়েল’ তৈরি করা হবে বর্জ্য প্লাস্টিক থেকে। ‘গ্রীণ এন ক্লীন ফুয়েল’ (৭৫% উৎপাদন হার) এর ৮০% ডিজেল ও কেরোসিন, ১৫% গ্যাসোলিন, ২% হেভি অয়েল এবং ৩% বাষ্পীভূত জ্বালানি থাকবে। এই ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশে এটিই প্রথম।
পণ্যের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ

  •     ১ কেজি বর্জ্য প্লাস্টিক হতে ০.৭৫-০.৮০ লিটার জ্বালানী শক্তিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব।

  •     উৎপাদন প্রক্রিয়া ১০০% দূষণমুক্ত (০% কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন)।

  •     বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে ২০-২৫% কম মূল্যে বিক্রয়যোগ্য।

  •     এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রক্রিয়া যাতে খুব কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন, কারণ এর উৎপাদিত জ্বালানীর একটি অংশ যন্ত্রের জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


ব্যবসায় মোট বিনিয়োগ ৫.৫০ কোটি টাকা। মোট মূলধনের ৬০% ঋণ থেকে এবং বাকি ৪০% ব্যবসার সহযোগীদের ব্যক্তিগত বিনিয়োগ থেকে করা হবে।

গত কয়েক বছরে পেট্রোলিয়াম খাতের ব্যবহার অত্যাধিক হারে বেড়েছে। এর ফলে গত বছরের তুলনায় ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে এটি ২৯.৭২% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ বছরের শেষে এর পরিমাণ ৬.৮ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে।

‘গ্রীণ এন ক্লীন ফুয়েল’ এর সম্ভাব্য ক্রেতা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, পাওয়ার প্ল্যান্ট, বয়লার ও ষ্টীম মেশিন ব্যবহারকারী, সাধারণ ব্যবহারকারী, কৃষি খাত যেখানে এর সঠিক ব্যবহার সুনিশ্চিত হবে।
প্রথম বছরের প্রাক্কলিত বিক্রয় ৩.৮৪ কোটি টাকা যেখানে বাণিজ্য বিস্তারের পর তা হবে ৮.৪৮ কোটি টাকা। বিক্রয় প্রতি বছর ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।
প্রচারপত্র, সংবাদপত্র, সেলস ফোর্স, কোম্পানীর ওয়েবসাইট, বিভিন্ন প্রদর্শন কেন্দ্র ও ট্রেড প্রদর্শনের দ্বারা পণ্যের প্রচার করা হবে। পেনিট্রেশন প্রাইসিং কৌশল কম গ্রাহকদের ক্রয় ক্ষমতার বিবেচনা করে পণ্য আমদানিকৃত জ্বালানীর তুলনায় ২০-২৫% কম মূল্যে বিক্রয় করা হবে কিন্তু তবুও বাণিজ্য লাভবান হবে। ৩ বছর পর ক্যাপাসিটি দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৭৫% হারে প্রতিদিন বর্জ্য প্লাস্টিক এর ২৮০০ কেজি ব্যবস্থাপনা করা হবে। যেহেতু এক/একাধিক বড় ক্রেতার কাছে সব উৎপাদিত পণ্য/অধিকাংশ বিক্রয় করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাই শুরুতে কোন এজেন্টের সাহায্য না নিয়ে পণ্য বিতরণের জন্য লজিস্টিক কোম্পানি ভাড়া করা হবে।

পাইরলাইসিস প্রক্রিয়া ব্যবহার করে প্লাস্টিক থেকে অশোধিত তেল উৎপাদন করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন এর অনুপস্থিতিতে প্লাস্টিকগুলো ৩৫০-৪০০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় গলানো হয়। সম্পূর্ণ উৎপাদন প্রক্রিয়া ৩ ভাগে বিভক্তÑ প্রথমে প্লাস্টিক গুলোর আয়তন কমান হয়, তারপর পাইরলাইসিস প্রক্রিয়ায় প্লাস্টিকগুলো জ্বালানীতে রূপান্তর করা হয় এবং পরে শোধন করে সংরক্ষণ করা হয়। ৩টি পদক্ষেপ পরিচালনার জন্য এখানে ৩টি মেশিন এর প্রয়োজন হবে। প্লাস্টিকগুলো ছোট করার জন্য রিভার্স ভেন্ডিং মেশিন, পাইরলাইসিস করার জন্য মেশিন এবং ক্রুড অয়েলকে রিফাইন করার জন্য রিফাইনারি মেশিন।
এ প্রযুক্তি দ্বারা প্রতিদিন ২১০০ লিটার ক্রুড ওয়েল প্রস্তুত করা যাবে এবং বছরে এর পরিমাণ হবে ৬.৪৪ লক্ষ লিটার।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালে ০.৩ মিলিয়ন প্লাস্টিক বর্জ্য একীভূত হয়েছিল এবং ২০১২ সালে তা বেড়ে হবে ০.৩১ মিলিয়নের চেয়েও বেশী। তাই এ ব্যবসার প্রধান কাঁচামালের উৎস অনেক বিশাল এবং বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৫০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বর্জ্য প্লাস্টিক সরবরাহ করছে। সুতরাং, বর্জ্য প্লাস্টিক সংগ্রহের দায়িত্ব এরূপ ২ অথবা তার বেশী প্রতিষ্ঠানকে আউটসোর্স করা হবে যারা বর্জ্য এলাকা থেকে প্লাস্টিক সরবরাহ করবে।

ব্যবসার ১ম বছরে ২২ জন কর্মী প্রয়োজন এবং সম্প্রসারণমূলক বছরের পর (বছর ৩) দ্বিগুণ হবে। ভবিষ্যতে ব্যবসা প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মী সংখ্যা বাড়ানো হবে। প্রশাসনিক বিভাগে ৪ জন ম্যানেজার, ৪ জন সুপারভাইজার, ১ জন প্রকৌশলী, ১ জন মেকানিক ও ২ জন নাইট গার্ড প্রয়োজন হবে।

বাৎসরিক উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২.২৪ কোটি টাকা। ব্রেক-ইভেন এ পৌঁছাতে হলে বছরে ২.৭৮ লক্ষ লিটার ক্রুড ওয়েল বিক্রয় তথা ১৯.৯ কোটি টাকার সমমূল্যের বিক্রয় করতে হবে।

যদিও ২১০০ লিটার উৎপাদনের মাধ্যমে স্বল্প পরিসরে ব্যবসা শুরুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু এটা কেবলই শুরু। ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। বাংলাদেশের জ্বালানী ক্ষেত্র এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যবসাটি বিশেষ অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।